মায়ের রান্নার কথা মনে পড়ে খেতে পারল না প্রবাসী ছেলে | প্রবাসজীবনের আবেগঘন গল্প

মায়ের রান্নার কথা মনে পড়ে খেতে পারল না প্রবাসী ছেলে | প্রবাসজীবনের আবেগঘন গল্প

🍲 মায়ের হাতের রান্নার কথা মনে পড়ে রাতের খাবার আর খেতে পারল না

প্রবাসীর জীবন | প্রবাসীওয়ার্ল্ড: সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে রুমে ফিরেছে রাকিব। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। সকালে তাড়াহুড়ো করে কাজে যাওয়ার সময় ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি।

রুমে ফিরে নিজের হাতে রান্না করা ভাত আর ডাল প্লেটে নিল।

প্রথম লোকমাটা মুখে তুলতেই হঠাৎ মনে পড়ে গেল—

মায়ের হাতের রান্নার কথা।

আর খেতে পারল না।

🌙 সারাদিন শেষে ছোট্ট একটি রুম

ঘড়িতে রাত প্রায় ১০টা।

রুমের অন্যরা কেউ খাচ্ছে, কেউ পরিবারের সঙ্গে Video Call-এ কথা বলছে। কেউ আবার ক্লান্ত হয়ে আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে।

রাকিব চুপচাপ রান্নাঘরে গেল।

ফ্রিজে তেমন কিছু নেই।

আগের দিনের একটু তরকারি আর সকালে রান্না করা ডাল।

ভাত গরম করে প্লেটে নিয়ে বিছানার পাশে বসে পড়ল।

আজ খুব ক্ষুধা পেয়েছে।

তবুও কেন জানি খাবারটা মুখে উঠছে না।

🍚 প্রথম লোকমাতেই মনে পড়ে গেল বাড়ির কথা

এক লোকমা ভাত মুখে দিল।

হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে উঠল বাড়ির সেই পুরোনো খাবার টেবিলটা।

মা গরম ভাত দিচ্ছেন।

পাশে ডাল, আলুভর্তা আর একটা ডিম ভাজি।

রাকিব তখন হয়তো বলত—

“মা, আজকে আবার এই তরকারি? ভালো কিছু রান্না করতে পারো না?”

মা রাগ করতেন না।

হেসে বলতেন—

“খেয়ে দেখ, ভালোই হয়েছে।”

সেই সাধারণ খাবারটাই আজ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খাবার বলে মনে হচ্ছে।

💔 যে খাবারের মূল্য দেশে থাকতে বোঝেনি

দেশে থাকতে কতবার মায়ের রান্না নিয়ে অভিযোগ করেছে।

কখনো লবণ বেশি।

কখনো ঝাল কম।

কখনো একই তরকারি দুদিন খেতে হবে বলে বিরক্ত হয়েছে।

মা তখন হয়তো বলতেন—

“একদিন দূরে গেলে বুঝবি মায়ের হাতের রান্না কী জিনিস।”

সেদিন কথাটা শুনে হেসেছিল রাকিব।

আজ হাজার মাইল দূরে বসে সেই কথাটাই বারবার কানে বাজছে।

📱 ফোনটা হাতে নিল

প্লেটটা পাশে রেখে মোবাইল হাতে নিল রাকিব।

বাংলাদেশে তখন গভীর রাত।

মাকে ফোন করবে কি না ভাবল।

আবার মনে হলো—

“এত রাতে ফোন দিলে মা ভয় পাবে।”

WhatsApp খুলে মায়ের নামটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।

শেষবার মা Message দিয়েছিলেন—

“বাবা, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করিস।”

ছোট্ট একটা বাক্য।

কিন্তু আজ সেই বাক্যটা পড়েই চোখ ভিজে গেল।

🥺 “মা, তোমার হাতের ডালটা খেতে ইচ্ছা করছে”

শেষ পর্যন্ত নিজেকে আটকাতে পারল না।

একটা Voice Message Record করল—

“মা… ঘুমাইছো?”

কিছুক্ষণ চুপ।

তারপর আবার বলল—

“জানো মা, আজকে তোমার হাতের ডাল আর আলুভর্তা খুব খেতে ইচ্ছা করছে।”

Send করার আগে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল।

তারপর Message-টা Delete করে দিল।

মাকে কষ্ট দিতে চায় না।

মা জানুক—

তার ছেলে বিদেশে ভালো আছে।

🍲 সামনে খাবার, তবুও ক্ষুধা নেই

কয়েক মিনিট আগেও যে মানুষটার প্রচণ্ড ক্ষুধা ছিল, এখন তার সামনে খাবার পড়ে আছে।

ভাত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

ডালের ওপর পাতলা আস্তরণ জমেছে।

কিন্তু আর খেতে ইচ্ছা করছে না।

কারণ কখনো কখনো মানুষ শুধু খাবার খায় না—

খাবারের সঙ্গে পরিচিত মানুষ, পরিচিত ঘর আর স্মৃতিও খোঁজে।

প্রবাসে সেই স্বাদটাই সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায়।

🏠 মনে পড়ে গেল শেষবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার দিন

বিদেশে আসার দিন সকালে মা অনেক কিছু রান্না করেছিলেন।

রাকিব ঠিকমতো খেতে পারেনি।

বিমান ধরার চিন্তা, ব্যাগ গোছানো, আত্মীয়দের ফোন—সব মিলিয়ে তাড়াহুড়ো।

মা বারবার বলছিলেন—

“আরেকটু ভাত খেয়ে যা। কখন আবার আমার হাতে খাবি কে জানে।”

রাকিব বলেছিল—

“আরে মা, কয়েক মাস পরেই তো ছুটিতে আসব।”

কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে।

ছুটি এখনো হয়নি।

💵 কেন এত দূরে থাকা?

মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে দেশে চলে যায়।

মায়ের পাশে বসে একবেলা ভাত খায়।

কিন্তু তারপর মনে পড়ে—

বাড়ির খরচ আছে।

পরিবারের দায়িত্ব আছে।

ভবিষ্যতের কিছু স্বপ্ন আছে।

এই কারণেই তো এত দূরে আসা।

নিজের কিছু প্রিয় মুহূর্ত বিসর্জন দিয়েই একজন প্রবাসী চেষ্টা করেন পরিবারের জীবনটা একটু সহজ করতে।

🌅 একদিন আবার মায়ের পাশে বসে খাবে

রাকিব প্লেটটা তুলে রাখল।

এক গ্লাস পানি খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

চোখ বন্ধ করতেই আবার সেই বাড়িটা দেখতে পেল।

মা রান্নাঘর থেকে ডাকছেন—

“বাবা, ভাত দিয়েছি। খেতে আয়।”

রাকিব মনে মনে বলল—

“আর কিছুদিন মা…”

“একদিন দেশে ফিরব।”

“সেদিন তোমার পাশে বসে গরম ভাত খাব।”

“তুমি শুধু আমার জন্য একটু ডাল আর আলুভর্তা রান্না করে রেখো।”

❤️ শেষ কথা

প্রবাসে দামি Restaurant আছে।

শত রকমের খাবার আছে।

চাইলেই অনেক কিছু কিনে খাওয়া যায়।

তবুও কোনো কোনো রাতে একজন প্রবাসীর সামনে থাকা খাবারটা গলা দিয়ে নামে না।

কারণ তার ক্ষুধাটা তখন শুধু খাবারের জন্য থাকে না।

ক্ষুধাটা থাকে মায়ের পাশে বসে একবেলা ভাত খাওয়ার জন্য।

দেশে থাকতে যে সাধারণ ডাল-ভাতের মূল্য আমরা অনেক সময় বুঝি না, হাজার মাইল দূরে গেলে সেই খাবারটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি।

মায়ের হাতের রান্নার কোনো Restaurant নেই।
কোনো Menu নেই।
কোনো দামও নেই।

তার স্বাদ শুধু দূরে গেলে বোঝা যায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *