রিয়াদে বাংলাদেশি আল আমিনকে অপহরণের অভিযোগ | মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি

রিয়াদে বাংলাদেশি আল আমিনকে অপহরণের অভিযোগ | মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি

রিয়াদে বাংলাদেশি আল আমিনকে অপহরণের অভিযোগ, মুক্তিপণ দেওয়ার পরও ফেরেননি পরিবারের কাছে

সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী আল আমিনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীদের চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হলেও এখনো তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং পরিবারের কাছে আরও অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নওগাঁর বাসিন্দা, কাজ করতেন রিয়াদের শিফা সানাইয়াতে

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল আমিনের বাড়ি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায়। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা সানাইয়া এলাকায় কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাতে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর থেকেই তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি।

নির্যাতনের অভিযোগ, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে দেড় লাখ টাকা

পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর আল আমিনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সেই নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরিবার প্রিয়জনকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ টাকা অপহরণকারীদের কাছে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।

কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও আল আমিনকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।

আরও মুক্তিপণ দাবি করছে চক্রটি

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পরও অপহরণকারীরা থামেনি। তারা এখন আরও মুক্তিপণ দাবি করছে। ফলে আল আমিনের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়েছে

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টিগোচরে আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আল আমিনকে নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও দূতাবাসের কাছে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

পরিবারের এখন একটাই চাওয়া—যত দ্রুত সম্ভব আল আমিনকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হোক।

দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগটি সত্য হলে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। তাই সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আল আমিনকে নিরাপদে উদ্ধারের প্রত্যাশা করছে তার পরিবার।

একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ—ঘটনাটি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য জানা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য, সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণসংক্রান্ত তথ্যগুলো পরিবারের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *