🇸🇦 বিদেশে কর্মী যাওয়া ৩৯% কমেছে, তবু অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশির গন্তব্য সৌদি আরব—কেন?
ঢাকা | প্রবাসীওয়ার্ল্ড ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু এই পতনের মধ্যেও সৌদি আরব এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
Bureau of Manpower, Employment and Training (BMET)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন, যা মোট বিদেশগামী কর্মীর প্রায় ৫০.৮৭ শতাংশ।
অর্থাৎ সহজভাবে বললে—
বিদেশে যাওয়া প্রতি ২ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১ জনেরও বেশি যাচ্ছেন সৌদি আরবে।
একই সময় ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। সেই তুলনায় এবার কর্মী যাওয়া প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে।
📉 কেন বিদেশে কর্মী যাওয়া ৩৯% কমেছে?
সামগ্রিক overseas employment কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ traditional labour market পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ থাকা।
বিশেষ করে Malaysia এবং Oman-এর শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় বিদেশে যাওয়ার মোট সংখ্যা কমেছে।
একই সঙ্গে নতুন labour market খোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো এখনো বড় আকারে কর্মী নেওয়া শুরু করেনি।
🇸🇦 তাহলে Saudi Arabia কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের overseas employment কমলেও Saudi Arabia-তে কর্মী যাওয়া তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকার কয়েকটি কারণ রয়েছে।
১. দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শ্রমবাজার
সৌদি আরব কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় overseas labour destination-এর একটি।
১৯৭৬ সাল থেকে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী গেছেন এবং বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করছেন বলে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক তথ্যেও উল্লেখ রয়েছে।
ফলে Saudi employer, Bangladeshi recruiting agency এবং worker—এই তিন পক্ষের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের recruitment network তৈরি হয়েছে।
🏗️ ২. Saudi Arabia-তে এখনো বড় Labour Demand রয়েছে
সৌদি আরব Vision 2030-এর অধীনে infrastructure, construction, tourism, hospitality, healthcare এবং technology-সহ বিভিন্ন sector-এ বড় ধরনের development project বাস্তবায়ন করছে।
একই সঙ্গে World Expo 2030 এবং FIFA World Cup 2034 সামনে রেখে দেশটিতে নতুন infrastructure ও service-sector project বাড়ছে।
এর ফলে foreign worker-এর প্রয়োজন পুরোপুরি শেষ হয়নি।
বিশেষ করে skilled এবং technical worker-এর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে।
🚪 ৩. অন্য বড় বাজার বন্ধ থাকায় Saudi Arabia-র ওপর নির্ভরতা বেড়েছে
এখানেই মূল সমস্যা।
Saudi Arabia-তে worker recruitment বেশি হওয়া যেমন ইতিবাচক, তেমনি বাংলাদেশের overseas labour market-এর একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিও তৈরি করছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি–১৭ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী Saudi Arabia-র পরে অনেক পিছিয়ে রয়েছে অন্য দেশগুলো।
এই সময়ে:
Saudi Arabia — 169,646 জন
Singapore — 40,398 জন
Qatar — 32,127 জন
Maldives — 15,969 জন
UAE — 13,129 জন
Kuwait — 13,071 জন
অর্থাৎ দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা Singapore-এর তুলনায় Saudi Arabia প্রায় চার গুণেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়েছে।
📊 ১০ আগস্ট পর্যন্ত পরিস্থিতি কী ছিল?
এর কয়েক দিন আগের BMET snapshot-এও একই trend দেখা যায়।
১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ জন বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গিয়েছিলেন।
এর মধ্যে Saudi Arabia-তে গেছেন:
১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬১ জন — ৫১.১৬%
অর্থাৎ তখনও বিদেশগামী কর্মীদের অর্ধেকের বেশি একাই সৌদি আরব গ্রহণ করছিল।
⚠️ Saudi Arabia-র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
যদি বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি foreign worker একটি দেশেই যায়, তাহলে ওই দেশের labour policy পরিবর্তন হলে বাংলাদেশে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
যেমন:
- Saudization বাড়লে কিছু profession-এ foreign worker কমতে পারে
- Skill Verification কঠোর হলে low-skilled worker সমস্যায় পড়তে পারেন
- Visa policy পরিবর্তিত হতে পারে
- Regional conflict বা flight disruption recruitment কমিয়ে দিতে পারে
- Economic slowdown হলে hiring কমতে পারে
তাই Saudi Arabia গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের জন্য অন্য labour market তৈরি করাও জরুরি।
🌍 নতুন শ্রমবাজার কেন এখনো বড় ফল দিচ্ছে না?
বাংলাদেশ সরকার Thailand, Japan, South Korea-সহ বিভিন্ন দেশে employment opportunity বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
কিন্তু নতুন market নিয়ে আলোচনা আর বাস্তবে হাজার হাজার worker deployment—দুটো এক বিষয় নয়।
সরকার নতুন কয়েকটি market নিয়ে কাজ করলেও এখনো সেগুলোর কোনোটিই Saudi Arabia-র বিকল্প হিসেবে বড় scale-এ worker নেওয়া শুরু করেনি।
🎓 Skill ও Language Gap বড় বাধা
Migration experts-এর মতে বাংলাদেশের নতুন labour market ধরতে না পারার বড় কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
Technical skill-এর ঘাটতি
Language barrier
International-standard training-এর অভাব
Recruitment system-এর সমস্যা
Saudi Arabia-র মতো traditional market-এ অনেক low- ও semi-skilled Bangladeshi worker-এর জন্য established route থাকলেও Japan, South Korea বা European market-এ language এবং professional certification অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
👷 Saudi job market-ও বদলাচ্ছে
এখানে বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি বড় বিষয় রয়েছে।
Saudi Arabia আগের মতো শুধু general labour-এর বাজার হিসেবে থাকছে না।
দেশটি foreign worker-এর Work Permit-কে skill category অনুযায়ী classify করছে এবং professional verification-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে Saudization-এর কারণে কিছু profession Saudi নাগরিকদের জন্য reserve বা heavily localized করা হচ্ছে।
তাই ভবিষ্যতে Saudi Arabia বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় labour market থাকলেও কোন ধরনের worker সেখানে সুযোগ পাবেন—সেটা পরিবর্তিত হতে পারে।
🇧🇩 বাংলাদেশিদের জন্য কোন Skill বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে?
আগামী দিনে Saudi job market-এ টিকে থাকতে general labour-এর পরিবর্তে specific professional skill থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে:
Construction & Technical Trades
Electrician, HVAC Technician, Welder, Pipe Fitter, Mechanical Technician
Healthcare
Nurse ও বিভিন্ন medical technician
IT & Technology
Software, Network, Cybersecurity, Cloud, Data-related skill
Hospitality
Hotel, restaurant এবং tourism-related skilled profession
৪ আগস্টের বাংলাদেশ-সৌদি আলোচনাতেও Healthcare, Construction, IT এবং Hospitality-তে আরও skilled Bangladeshi professional নেওয়ার আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে এটিকে এখনই confirmed mass recruitment হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
💰 Saudi Arabia কি ভবিষ্যতেও #1 থাকবে?
বর্তমান trend অনুযায়ী Saudi Arabia খুব শিগগির বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় labour destination-এর অবস্থান হারাবে—এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
বরং traditional recruitment network, বড় Bangladeshi community এবং Saudi development projects-এর কারণে দেশটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
কিন্তু শুধু Saudi Arabia-র ওপর নির্ভর করলে Bangladesh overseas employment sector external shock-এর প্রতি বেশি vulnerable থাকবে।
এই কারণেই experts labour market diversification-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
📌 সংখ্যাগুলো এক নজরে
১৭ ফেব্রুয়ারি–১৭ আগস্ট ২০২৬
মোট বিদেশগামী কর্মী: 333,427
Saudi Arabia: 169,646
Saudi share: 50.87%
একই সময় ২০২৫: 542,438
Overall decline: প্রায় 39%
১৮ ফেব্রুয়ারি–১০ আগস্ট ২০২৬ snapshot
মোট বিদেশগামী: 318,350
Saudi Arabia: 162,861
Saudi share: 51.16%
শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমে গেলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—
Saudi Arabia এখনো বাংলাদেশের overseas employment sector-এর সবচেয়ে বড় ভরসা।
কিন্তু একই সঙ্গে এই সংখ্যাগুলো একটি সতর্কবার্তাও দিচ্ছে।
বাংলাদেশ যদি নতুন labour market তৈরি করতে না পারে এবং skilled worker-এর সংখ্যা না বাড়ায়, তাহলে একটি দেশের labour policy পরিবর্তনও বাংলাদেশের লাখ লাখ overseas job seeker-এর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত—
Saudi market ধরে রাখা + Skilled Worker বাড়ানো + নতুন labour market তৈরি করা।

